রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা; নেপথ্যে সিন্ডিকেট নির্মূল টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত, আহত ২ কেঁদে কেঁদে শ্রমিকদল নেতার বিচার চাইলেন বিএনপি নেতা! বাসুদেবপুরে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত স্টেডিয়াম ও শিল্পাঞ্চলের ঘোষনা — হুইপ দুলু। নোয়াখালীতে রাতের অভিযানে ডিবির জাল: ১৪০০ লিটার ডিজেলসহ ৪ জন গ্রেফতার জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন, ন্যায়বিচার দাবি পাবনার চাটমোহরে বৈশাখী মেলার নামে ‘মাজার’বাণিজ্য রাঙামাটিতে সড়কের কাজ দ্রুত শেষের দাবিতে মানববন্ধন, দুর্ভোগে প্রায় দুই লাখ মানুষ জুড়ীতে আউশ প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন ৩৭০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ নগরবাসীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে রাঙামাটিতে পৌরসভার মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পাবনার চাটমোহরে বৈশাখী মেলার নামে ‘মাজার’বাণিজ্য

Reporter Name

পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের মাজারে নামে প্রতি বছর বৈশাখ মাস এলেই জমে ওঠে এক রহস্যময় মাজার মেলা। কথিত ‘পীর শাহ্ চেতন ইয়েমেনি (রহ.) মাজার শরীফ’কে ঘিরে মাসজুড়ে, বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার বসে এই মেলা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—এটি কোনো স্বীকৃত মাজার নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা একটি লাভজনক বাণিজ্যকেন্দ্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাজারকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের ভিড়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে—এখানে মানত করলে সন্তান লাভ, রোগমুক্তি কিংবা নানা সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। সেই বিশ্বাসে অনেকে গরু, ছাগল, মুরগি এমনকি নগদ অর্থও দান করছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই মেলা থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। তবে সেই অর্থের কোনো স্বচ্ছ হিসাব বা নির্দিষ্ট খাতের তথ্য পাওয়া যায় না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তর, স্বীকৃত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে এই মাজারের প্রামাণ্য অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেছেন। ফলে মাজারটির প্রকৃত পরিচয় ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন যেন থেকেই যা।
মাজার প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে নানা ধরনের আচার-অনুষ্ঠান চলছে। অনেক ভক্ত ছোট ছোট ঘোড়ার মূর্তি এনে রেখে যাচ্ছেন। কেউ দুধ ঢালছেন, কেউ মোমবাতি ও আগরবাতি জ্বালাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে কোনো প্রমাণিত মাজার নেই। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে টাকা তোলা হচ্ছে। এখন আবার মূর্তি রাখার মতো নতুন নতুন বিষয় যোগ হয়েছে।”
এ বিষয়ে মাজার কমিটির সভাপতি রওশন আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। তার দাবি, সংগৃহীত অর্থ মাজারের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। তবে দীর্ঘ আট বছরেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এই অর্থ যাচ্ছে কোথায়?
সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—
এটি কি সত্যিকারের কোনো মাজার, নাকি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা একটি সুপরিকল্পিত বাণিজ্য?
বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের জরুরি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।