নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদের হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে আফিয়া বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আফিয়া বেগম স্থানীয় প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের মা।
পরিবারের অভিযোগ, ‘এসো গড়ি উন্নয়ন সংস্থা’র পরিচালক আবদুল আউয়াল গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে ১০-১২ জন লোক নিয়ে এসে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘর থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে আফিয়া বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরদিন সকালে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়াগ গ্রামের বাসিন্দা মৃত আলী আশরাফ খান সওজে কর্মরত ছিলেন। তিনি জয়াগ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের সওজের জমি ইজারা নিয়ে পরিবারসহ বসবাস এবং একটি স্যানিটারি দোকান পরিচালনা করতেন। তার মৃত্যুর পর ছেলে বেলাল হোসেন ওই দোকান পরিচালনা করে আসছেন।
পরিবারের আরেক সদস্য আব্দুস সোবহান জানান, ইজারার মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়নের জন্য আবেদন করা হলেও সওজ কার্যালয় থেকে নতুন বন্দোবস্ত বন্ধ থাকার কথা জানানো হয়।
বেলাল হোসেনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির প্রতি আবদুল আউয়ালের নজর ছিল। ঘটনার দিন তিনি দলবল নিয়ে এসে পাঁচ দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন, অন্যথায় বসতঘর উচ্ছেদের হুমকি দেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর নোয়াখালী সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে আবাসিক প্রবেশপথ নির্মাণের জন্য ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ জমি ইজারার আবেদন করেন আবদুল আউয়াল। পরে শর্তসাপেক্ষে তাকে ইজারা অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে সওজের নকশা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তাকে নির্দিষ্ট একটি অংশ ইজারা দেওয়া হলেও তিনি ওই সীমার বাইরে গিয়ে বেলাল হোসেনের দোকান উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর আলী আশরাফ খান ১৬ হাজার ৪০ টাকা জমা দিয়ে একই জমি কৃষি ও মৎস্য চাষের জন্য ইজারা নিয়েছিলেন বলে প্রাপ্ত রসিদে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আবদুল আউয়াল ‘এসো গড়ি উন্নয়ন সংস্থা’র আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন বলেন, “সরকারি ওই জায়গায় বেলাল হোসেনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে এবং তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে জমিটি নতুন করে ইজারা দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”
এ ব্যাপারে জানতে নোয়াখালী সওজ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল আউয়াল বলেন, “আমি কাউকে কোনো হুমকি দিইনি। সড়কের কাজ চলাকালে সওজের লোকজনই তাদের সরে যেতে বলেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, আফিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।
তবে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ওই দাবি নাকচ করে বলেন, আফিয়া বেগম ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন না; তার ডায়াবেটিস ছিল এবং হুমকির পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।