বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কক্সবাজারে গলা ও দুই হাতের কব্জি কেটে এক নারীকে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ঘোড়াশালে তিতাস গ্যাস ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান: লক্ষাধিক টাকা জরিমানা ও বকেয়া আদায় বৈশাখী সাজে ইতালিয়ান তরুণী লুক্রেসিয়া ও নোয়াখালীর তরুণ জাবেদ ইকরাম আলোচনায় স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ড্রামে সাড়ে ৫ হাজার লিটার তেল, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সওজের জমি নিয়ে বিরোধ: নোয়াখালীতে উচ্ছেদের হুমকিতে বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ সাভারে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদল কর্মী হৃদয়কে মাদক মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোরেলগঞ্জে খালে মিলল মানবদেহের খণ্ডিত পা: নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আভাস, নেপথ্যে কারা? তদন্তে নেমেছে পুলিশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে, জুনের মধ্যে মিলবে ‘হেলথ কার্ড’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারের বিরুলিয়ায় নানা আয়োজনে পালিত হলো পহেলা বৈশাখ

ঘোড়াশালে প্রাণ আরএফএল কোম্পানিতে চিশতিয়া বাহিনীর সশস্ত্র হামলা: রণক্ষেত্র , আহত ১৫

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঘোড়াশাল পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ভাগদীতি এলাকায় প্রাণ আরএফএল ফ্যাক্টরির বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে মহিউদ্দিন চিশতিয়া বাহিনীর ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। এই হামলায় এবং পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তারা বর্তমানে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ঘোড়াশাল পৌরসভার ৫ থেকে ৯নং ওয়ার্ড এলাকায় মহিউদ্দিন চিশতিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্য বিদ্যমান। স্থানীয়দের ভাষায়, এই অঞ্চলে তার নির্দেশ ছাড়া কোনো কাজ হওয়া অসম্ভব। তবে সম্প্রতি ছাত্রদল নেতা মিয়া সজিব প্রাণ কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে বালু ভরাটের কাজটি পান। চিশতিয়ার অনুমতি বা হস্তক্ষেপ ছাড়া এই কাজ শুরু হওয়ায় তিনি চরম ক্ষিপ্ত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সজিবের লোক এবং প্রাণ কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় ব্যাপক গোলাগুলি ও রামদার কোপে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতই বেশি ছিল যে, স্থানীয় থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে র‍্যাবের সহায়তা নেওয়া হয়। র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অস্ত্রের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন প্রকাশ্য দিবালোকে এই ধরনের ভারী অস্ত্রের মহড়া দেখে নরসিংদী জেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন— একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র কোথা থেকে আসলো? প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে এই সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে উঠলো, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করা
করা হয়েছে। এমনকি ‘ফেস ‘-এর নরসিংদী প্রতিনিধি তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাকেও ম্যানেজ করা হয়। যদিও ‘নরসিংদীর জনসংবাদ টিভি’সহ কয়েকটি গণমাধ্যম সাহসিকতার সাথে সংবাদটি প্রচার করেছে, তবে অর্থের বিনিময়ে কিছু কথিত ‘হলদে মিডিয়া’ সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের মতো একজন ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদের এলাকায় এই ধরনের মুষ্টিমেয় ক্যাডার বাহিনীর কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সন্ত্রাসী চক্রের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণেই রাজনৈতিকভাবে তাকে নানা সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।
পলাশের বর্তমান পরিস্থিতি
এক সময়ের শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত পলাশ এখন যেন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সারা বাংলাদেশের চাঁদাবাজদের তালিকার একটি বড় অংশ এই অঞ্চলের বলে জানা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ‘ফুলের নামে পলাশ’কে এখন আতঙ্কের জনপদ হিসেবে দেখছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীদের দাবি থানা পুলিশ মামলা নিচ্ছে না এ ব্যাপারে ওসি জানান পলাশে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি