বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কক্সবাজারে গলা ও দুই হাতের কব্জি কেটে এক নারীকে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন ঘোড়াশালে তিতাস গ্যাস ও প্রশাসনের যৌথ অভিযান: লক্ষাধিক টাকা জরিমানা ও বকেয়া আদায় বৈশাখী সাজে ইতালিয়ান তরুণী লুক্রেসিয়া ও নোয়াখালীর তরুণ জাবেদ ইকরাম আলোচনায় স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায় পেছাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ড্রামে সাড়ে ৫ হাজার লিটার তেল, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান সওজের জমি নিয়ে বিরোধ: নোয়াখালীতে উচ্ছেদের হুমকিতে বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ সাভারে পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবদল কর্মী হৃদয়কে মাদক মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোরেলগঞ্জে খালে মিলল মানবদেহের খণ্ডিত পা: নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আভাস, নেপথ্যে কারা? তদন্তে নেমেছে পুলিশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে, জুনের মধ্যে মিলবে ‘হেলথ কার্ড’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারের বিরুলিয়ায় নানা আয়োজনে পালিত হলো পহেলা বৈশাখ

এলজিইডিতে ফ্যাসিস্টের দোসর রক্ষণাবেক্ষণ শাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বিতর্কিত প্রকৌশলী ইফতেখার

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার” জনশ্রুতিটি যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি)। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী মির্জা মো. ইফতেখার আলীকে এবার সংস্থাটির অন্যতম প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। সম্প্রতি তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) পদে পদায়ন করা হয়েছে। যা নিয়ে এলজিইডির অভ্যন্তরে এবং ঠিকাদার মহলে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লক্ষ্য অর্জনে নীতিহীন পথচলা অভিযোগ রয়েছে মির্জা মো. ইফতেখার আলী নিজের পদ ও স্বার্থ হাসিলের জন্য যেকোনো স্তরে নামতে দ্বিধাবোধ করেন না। ১৯৯৫ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতনদের তোষামোদ এবং কূটিল বুদ্ধির মাধ্যমে ফায়দা লোটার অভিযোগ ছিল। ২০১২ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার পর তার দুর্নীতির ডালপালা আরও বিস্তৃত হয়।
মাগুরা থেকে কক্সবাজার দুর্নীতির মহোৎসব মাগুরায় কর্মরত থাকাকালীন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এরপর বদলি হয়েও তার স্বভাব বদলায়নি। যশোর বিমানবন্দরে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকাসহ আটক হওয়ার খবর চাউর হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি পার পেয়ে যান। সবচেয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার কক্সবাজার অবস্থানকালে। রোহিঙ্গা প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের নামমাত্র বাস্তবায়ন করে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই সময়েই তিনি তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বলয়ে ঢুকে পড়েন। এমনকি কক্সবাজারে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত জমি ও হোটেলের তদারকির দায়িত্বও পালন করতেন বলে জানা যায়।
মন্ত্রীর ‘ক্যাশিয়ার’ থেকে কুমিল্লার দণ্ডমণ্ডুকর্তা পরবর্তীতে তাজুল ইসলাম তাকে নিজের জেলা কুমিল্লায় নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি হয়ে ওঠেন এলজিইডির অলিখিত ‘পোস্টিং মন্ত্রী’। টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য এবং আওয়ামী লীগপন্থী ঠিকাদারদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হন ইফতেখার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে নিজেকে ‘বিএনপিপন্থী’ দাবি করে একটি প্রকল্পের পরিচালক (PD) পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন বর্তমানে তাকে এলজিইডির ‘রক্ষণাবেক্ষণ’ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী করা হয়েছে, যে শাখাটি সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক মেরামতে বছরে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসরকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানোয় প্রশ্ন উঠেছে খোদ প্রধান প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের কথা বলছে, সেখানে ইফতেখার আলীর মতো ব্যক্তিদের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য চরম হুমকি। এই বিশাল অঙ্কের টাকার নিরাপত্তা নিয়ে এখন সাধারণ মানুষ ও সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।