আলমগীর মানিক,রাঙামাটি
রাঙামাটির কুতুকছড়ি এলাকায় ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও রক্ত ঝরল পাহাড়ে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বেই প্রাণ গেল এক আঞ্চলিক সংগঠনের নেতার। ঘটনাটি নতুন করে “ভাতৃঘাতি সংঘাত” ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ছয়টার দিকে রাঙামাটি সদর উপজেলাধীন কুতুকছড়ি উপরপাড়া এলাকায় সশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত ধর্মসিং চাকমার বাড়িতে গিয়ে তাকে বাইরে ডেকে নেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জসিম উদ্দিন একজন নিহতের খবর প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
ধর্মসিং চাকমা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সহযোগী সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। তার মৃত্যু পাহাড়ি আঞ্চলিক রাজনীতির ভেতরের বিভক্তি ও সহিংসতার বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এলোপাতাড়ি গুলির সময় তার দুই বোন ভাগ্যসোনা চাকমা ও কৃপাসোনা চাকমা গুলিবিদ্ধ হন। তাদের হাতেই গুলি লাগে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম রেফার্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা: শওকত আকবর খান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের মতে, এই ধারাবাহিক ভাতৃঘাতি সহিংসতা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছে এবং স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাঙামাটি-১৭/০৪/২০২
০১৯১৯৫০৫৫০৪
০১৮২০৩০০৩০৫